রাষ্ট্রের ব্যালটে ক্ষমতার ভাষা আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার কোথায়?
রাষ্ট্রের ব্যালটে ক্ষমতার ভাষা আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার কোথায়?
আন্দোলন প্রতিবেদন
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ
রাষ্ট্র যখন নির্বাচন আয়োজন করে, তখন সে নিজেকে গণতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে দাঁড় করায়। ব্যালট বাক্স, ভোটকেন্দ্র, আইনশৃঙ্খলার সবকিছু মিলে একটি দৃশ্য তৈরি হয়, যেখানে নাগরিকের অংশগ্রহণই নাকি ক্ষমতার উৎস। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় এই দৃশ্য ভেঙে পড়ে। এখানে নির্বাচন মানেই শুধু ক্ষমতার হস্তান্তর নয়; নির্বাচন মানে রাষ্ট্র এবং আরও নির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সমূহের আধিপত্য পুনর্নিশ্চিত করা। সমতলে খানিকটা পৃথক। কিন্তু সমতলের নিপীড়িত আদিবাসী জনগণের ভাগ্যও নির্বাচন বদলাতে পারেনি বিগত ৫৪ বছরে।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পতন-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের নামে যে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে তাতেও পাহাড় বা সমতলের আদিবাসীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। কারণ রাষ্ট্রের চরিত্র পূর্বের মতোই রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণিই ক্ষমতায় রয়েছে। তাদেরই স্বার্থরক্ষাকারী কোনো গোষ্ঠী সরকার গঠন করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বুর্জোয়া রাষ্ট্র কখনোই নিরপেক্ষ কোনো সত্তা নয়।
এটি একটি সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি, যে ভূমি দখল করে, জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলায়, সামরিক উপস্থিতি স্থায়ী করে এবং তারপর সেই বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন আয়োজন করে। এই প্রেক্ষিতে, যে রাষ্ট্র নিজেই সমস্যার অংশ, সে কীভাবে সমাধানের মাধ্যম হতে পারে? আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। এটি জন্ম নিয়েছে দীর্ঘ বঞ্চনা, ভূমি হারানো, সাংস্কৃতিক অবমূল্যায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে কাপ্তাই বাঁধ থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, পুনর্বাসনের নামে বাঙালি বসতি স্থাপন, সবকিছুই রাষ্ট্রের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত মেনে হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির শুরু থেকে ক্ষমতায় থাকা শাসকশ্রেণির প্রত্যেকটি দল তার পুর্রবসূরীদের অনুসরণ করেছে।
আর এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে পাহাড়ের জনগণের কোনোরকম সম্মতি ছাড়াই। জাতীয় নির্বাচনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী কোনো পক্ষই এই ইতিহাসের কোনো জবাব দিতে পারবে না। রাষ্ট্র পাহাড়িদের বলে, তোমরা ভোট দিতে পারো, সংসদে প্রতিনিধি পাঠাতে পারো। কিন্তু আদিবাসীরা জানে, সংসদীয় কাঠামোতেই তাদের পরাজয় লেখা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতিতে তারা চিরকাল সংখ্যালঘু। ফলে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাগ্য নির্ধারিত হয় বাঙালিদের ভোটে, শাসকশ্রেণির স্বার্থে।
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে সাংবিধানিক চৌহদ্দির মধ্যে সমাধান করতে চেয়েছিল, কিন্তু পাহাড়ি বিশ্বাসঘাতক নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রের যোগসাজশের চুক্তি যে পাহাড়ি জনগণের মুক্তি নিয়ে আসেনি, তা বর্তমানে জীবিত পাহাড়িদের মধ্যে কে অস্বীকার করবে? ভূমি কমিশন অকার্যকর, আঞ্চলিক পরিষদ ক্ষমতাহীন, আর সামরিক ক্যাম্প এখনো পাহাড়ের বাস্তবতা। এর মধ্যেই নির্বাচন আসে এবং রাষ্ট্র দাবি করে, গণতন্ত্র চলছে! নির্বাচনের সময় পাহাড়ে রাষ্ট্রের ভাষা কিছুটা বদলায়। তখন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আসে, শান্তির কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আবার সেই পুরোনো নীতি, নিরাপত্তার নামে দমন, উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ। ভোট এখানে ক্ষমতার পালা এবং শাসকের মুখ বদলায়।
বর্তমান নির্বাচনেও তার হেরফের হবে এমন কোনোই আলামত নেই। আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি তাই নির্বাচনী রাজনীতির বাইরের প্রশ্ন। এটি রাষ্ট্রের কাঠামোগত চরিত্রকে চ্যালেঞ্জ করে। আত্মনিয়ন্ত্রণ মানে আদিবাসীরা নিজেরাই ঠিক করবে, তাদের ভূমি কীভাবে ব্যবহৃত হবে, প্রশাসন কীভাবে চলবে, শিক্ষা কোন ভাষায় হবে, বন কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই দাবি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার ধারণার বিরুদ্ধে যায়। তাই রাষ্ট্র এই দাবিকে কখনো বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে দাগিয়ে দেয়। কখনো বা ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ছাড়া পাহাড়ে কোনো টেকসই শান্তি সম্ভব নয়। বর্তমান জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারা পাহাড়ের নিপীড়িত জনগণের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করবে না, এবং দমননীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। এখানে প্রশ্ন শুধু ভোটাধিকার নয়; প্রশ্ন হলো সিদ্ধান্তের অধিকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা ভোট দিতে পারে, কিন্তু তারা ঠিক করতে পারে না তাদের এলাকায় সেনা ক্যাম্প থাকবে কি না বা নতুন ক্যাম্প হবে কি না, তাদের জমি অধিগ্রহণ হবে কি না, তাদের বন রক্ষা পাবে কি না।
এই বৈষম্যই প্রমাণ করে, রাষ্ট্রের ব্যালট আসলে ক্ষমতার ভাষা, ন্যায়ের নয়। আদিবাসী নারীদের অবস্থান এই রাজনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নীতির প্রথম শিকার তারাই। কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতিতে তাদের কণ্ঠ প্রায় অদৃশ্য। রাষ্ট্র তাদেরকে নাগরিক হিসেবে দেখে কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয়। এই বুর্জোয়া নির্বাচনে পাহাড়-সমতলের আদিবাসী নারীদের মুক্তির কোনোই সম্ভাবনা নেই।
আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সেকারণেই বুর্জোয়া নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো কালেই সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিপ্লবী সংগঠন এবং তার অধীনে একটি বিপ্লবী কর্মসূচি। যা পাহাড়ের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং একইসাথে স্বাধীনভাবে একটি স্বনির্ভর প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বাধীনতাকে রক্ষা করবে। যে রাষ্ট্র সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের অভিমুখে পরিচালিত হবে। কারণ সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম ব্যবস্থা ছাড়া কোনো জাতিই পূর্ণাঙ্গ মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে চলতে পারে না।
১/১/২০২৬
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
রাষ্ট্রের ব্যালটে ক্ষমতার ভাষা আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার কোথায়?
রাষ্ট্র যখন নির্বাচন আয়োজন করে, তখন সে নিজেকে গণতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে দাঁড় করায়। ব্যালট বাক্স, ভোটকেন্দ্র, আইনশৃঙ্খলার সবকিছু মিলে একটি দৃশ্য তৈরি হয়, যেখানে নাগরিকের অংশগ্রহণই নাকি ক্ষমতার উৎস। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় এই দৃশ্য ভেঙে পড়ে। এখানে নির্বাচন মানেই শুধু ক্ষমতার হস্তান্তর নয়; নির্বাচন মানে রাষ্ট্র এবং আরও নির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সমূহের আধিপত্য পুনর্নিশ্চিত করা। সমতলে খানিকটা পৃথক। কিন্তু সমতলের নিপীড়িত আদিবাসী জনগণের ভাগ্যও নির্বাচন বদলাতে পারেনি বিগত ৫৪ বছরে।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পতন-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের নামে যে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে তাতেও পাহাড় বা সমতলের আদিবাসীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। কারণ রাষ্ট্রের চরিত্র পূর্বের মতোই রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণিই ক্ষমতায় রয়েছে। তাদেরই স্বার্থরক্ষাকারী কোনো গোষ্ঠী সরকার গঠন করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বুর্জোয়া রাষ্ট্র কখনোই নিরপেক্ষ কোনো সত্তা নয়।
এটি একটি সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি, যে ভূমি দখল করে, জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলায়, সামরিক উপস্থিতি স্থায়ী করে এবং তারপর সেই বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন আয়োজন করে। এই প্রেক্ষিতে, যে রাষ্ট্র নিজেই সমস্যার অংশ, সে কীভাবে সমাধানের মাধ্যম হতে পারে? আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। এটি জন্ম নিয়েছে দীর্ঘ বঞ্চনা, ভূমি হারানো, সাংস্কৃতিক অবমূল্যায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে কাপ্তাই বাঁধ থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, পুনর্বাসনের নামে বাঙালি বসতি স্থাপন, সবকিছুই রাষ্ট্রের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত মেনে হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির শুরু থেকে ক্ষমতায় থাকা শাসকশ্রেণির প্রত্যেকটি দল তার পুর্রবসূরীদের অনুসরণ করেছে।
আর এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে পাহাড়ের জনগণের কোনোরকম সম্মতি ছাড়াই। জাতীয় নির্বাচনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী কোনো পক্ষই এই ইতিহাসের কোনো জবাব দিতে পারবে না। রাষ্ট্র পাহাড়িদের বলে, তোমরা ভোট দিতে পারো, সংসদে প্রতিনিধি পাঠাতে পারো। কিন্তু আদিবাসীরা জানে, সংসদীয় কাঠামোতেই তাদের পরাজয় লেখা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতিতে তারা চিরকাল সংখ্যালঘু। ফলে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাগ্য নির্ধারিত হয় বাঙালিদের ভোটে, শাসকশ্রেণির স্বার্থে।
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে সাংবিধানিক চৌহদ্দির মধ্যে সমাধান করতে চেয়েছিল, কিন্তু পাহাড়ি বিশ্বাসঘাতক নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রের যোগসাজশের চুক্তি যে পাহাড়ি জনগণের মুক্তি নিয়ে আসেনি, তা বর্তমানে জীবিত পাহাড়িদের মধ্যে কে অস্বীকার করবে? ভূমি কমিশন অকার্যকর, আঞ্চলিক পরিষদ ক্ষমতাহীন, আর সামরিক ক্যাম্প এখনো পাহাড়ের বাস্তবতা। এর মধ্যেই নির্বাচন আসে এবং রাষ্ট্র দাবি করে, গণতন্ত্র চলছে! নির্বাচনের সময় পাহাড়ে রাষ্ট্রের ভাষা কিছুটা বদলায়। তখন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আসে, শান্তির কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আবার সেই পুরোনো নীতি, নিরাপত্তার নামে দমন, উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ। ভোট এখানে ক্ষমতার পালা এবং শাসকের মুখ বদলায়।
বর্তমান নির্বাচনেও তার হেরফের হবে এমন কোনোই আলামত নেই। আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি তাই নির্বাচনী রাজনীতির বাইরের প্রশ্ন। এটি রাষ্ট্রের কাঠামোগত চরিত্রকে চ্যালেঞ্জ করে। আত্মনিয়ন্ত্রণ মানে আদিবাসীরা নিজেরাই ঠিক করবে, তাদের ভূমি কীভাবে ব্যবহৃত হবে, প্রশাসন কীভাবে চলবে, শিক্ষা কোন ভাষায় হবে, বন কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই দাবি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার ধারণার বিরুদ্ধে যায়। তাই রাষ্ট্র এই দাবিকে কখনো বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে দাগিয়ে দেয়। কখনো বা ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ছাড়া পাহাড়ে কোনো টেকসই শান্তি সম্ভব নয়। বর্তমান জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারা পাহাড়ের নিপীড়িত জনগণের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করবে না, এবং দমননীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। এখানে প্রশ্ন শুধু ভোটাধিকার নয়; প্রশ্ন হলো সিদ্ধান্তের অধিকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা ভোট দিতে পারে, কিন্তু তারা ঠিক করতে পারে না তাদের এলাকায় সেনা ক্যাম্প থাকবে কি না বা নতুন ক্যাম্প হবে কি না, তাদের জমি অধিগ্রহণ হবে কি না, তাদের বন রক্ষা পাবে কি না।
এই বৈষম্যই প্রমাণ করে, রাষ্ট্রের ব্যালট আসলে ক্ষমতার ভাষা, ন্যায়ের নয়। আদিবাসী নারীদের অবস্থান এই রাজনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নীতির প্রথম শিকার তারাই। কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতিতে তাদের কণ্ঠ প্রায় অদৃশ্য। রাষ্ট্র তাদেরকে নাগরিক হিসেবে দেখে কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয়। এই বুর্জোয়া নির্বাচনে পাহাড়-সমতলের আদিবাসী নারীদের মুক্তির কোনোই সম্ভাবনা নেই।
আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সেকারণেই বুর্জোয়া নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো কালেই সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিপ্লবী সংগঠন এবং তার অধীনে একটি বিপ্লবী কর্মসূচি। যা পাহাড়ের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং একইসাথে স্বাধীনভাবে একটি স্বনির্ভর প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বাধীনতাকে রক্ষা করবে। যে রাষ্ট্র সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের অভিমুখে পরিচালিত হবে। কারণ সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম ব্যবস্থা ছাড়া কোনো জাতিই পূর্ণাঙ্গ মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে চলতে পারে না।
১/১/২০২৬
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র